পৌরসভা সম্পর্কে

ত্রিশাল ময়মনসিংহ থেকে২০ কি:মি: দক্ষিণে ভালুকা উপজেলার উত্তরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক নিয়ে গঠিত। সুতিয়ানদী ত্রিশাল পৌরসভার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।  ১৯০৯ সালের মে ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ত্রিশাল থানাহওয়ার পূর্বে অঞ্চল ছিল ময়মনসিংহ সদর কোতুয়ালী থানার অন্তর্গত প্রত্যন্তপশ্চাদপদ প্রায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা। পরবর্তীতে ফুলবাড়ীয়া থানার টি ইউনিয়নঅন্তর্ভূক্ত করে মোট ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে ত্রিশাল থানা গঠিত।  ময়মনসিংহ জেলায় মুসলিম শাসনের আগমন ঘটেখ্রীষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর শেষের দিকে, যার অর্ন্তভুক্ত হয় ত্রিশাল এলাকাও। তখনজেলা ছিল না। মুসলিম শাসকগণ শাসন কার্যের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে পরগনারসৃষ্টি করেন। ব্রক্ষ্মপুত্র নদের পূর্বভাগ ময়মনসিংহ এবং পশ্চিমভাগ আলাপসিংহ পরগনানামে পরিচিত ছিল। আর ত্রিশাল স্বাভাবিক ভাবেই আলাপসিংহ পরগনার অর্ন্তভূক্ত হয়। প্রথমেমুসলমানদের সংখ্যা বসতি বেশী দেখা যায়।  পরে আস্তে আস্তে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলীদেরআগমনের পূর্বে গারোদের বংশধর এখানে বসতি স্থাপন করে। ত্রিশাল বাজার হওয়ার পূর্বে নওধারভাংতির পূর্ব পার্শ্বে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিমে সুতিয়া নদীর দক্ষিণ তীরেকুলাইতলা মন্দিরকে ঘিরেই ছিল নওধার হাট, যা জমিদারদের দেয় নাম রাধাগঞ্জ, প্রকাশত্রিশাল বাজার হওয়ার পর ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব হারায়। উক্ত বাজারে লোকজন কেনাকাটাকরার পর নিজ নিজ আবাসস্থলে চলে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল একবারে নগন্য সংখ্যক।  থানা সংলগ্ন বর্তমান নজরুল একাডেমী, দরিরামপুরজুনিয়র হাই ইংলিশ স্কুল নামে রামপুর মৌজার আধিবাসী  শিক্ষার প্রতি আগ্রহী মেহের আলী মৃধার একান্তপ্রচেষ্টায় থানা সৃষ্টি হয়।  বর্তমানেত্রিশালের পরিচিতি ব্যাপক বিকাশ ঘটে আবুল মুনসুর আহম্মদ, আবুল কালাম শামসদ্দিন, ইমানআলী সাহিত্যরত্ন সাহেবদের মত ক্ষণজন্মা ব্যক্তিদের আমল থেকে প্রকৃতপক্ষে আর একধাপপরিপূর্নতার দিকে অগ্রসর হয় ময়মনসিংহের স্বনামধন্য জেলা প্রশানক পি, (পিয়ার আলী)নাজির (১৯৬৪-৬৬) সাহেবের ত্রিশালে প্রথম নজরুল জন্মোৎসব পালনের মধ্যদিয়ে। যারফলশ্রুতিতে, ত্রিশাল নামাপাড়া বটতলায় আজ হয়ে উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামবিশ্ববিদ্যালয়। রফিজউল্ল্যা দারোগা ত্রিশালবাসীর অন্তরে জাগরুক হয়ে থাকবেঅনন্তকাল। কেননা তিনিই তো কৈশোরে নজরুলকে এখানে এনেছিল।  অন্য প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে এবার ত্রিশালের নামকরনকিভাবে হয়েছে তা লক্ষ করা যাক। ত্রিশাল থানার নামকরণ করা হয়েছে ত্রিশাল মৌজারনামের উপর ভিত্তি করে। ত্রিশাল মৌজাকে কেন্দ্র করেই ত্রিশাল ইউনিয়ন গঠিত হয়।  ত্রিশাল থানার নামকরণ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। বাংলাদেশপরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত বাংলাদেশ আদমশুমারী ১৯৯১ এর কমিউনিটি সিরিজে ৬০ নংপৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, অতীতে অত্র অঞ্চলে তিনটি বিশাল আকৃতির শাল বৃক্ষ ছিল। এতিনটি শাল গাছের নাম অনুসারে ত্রিশাল নামকরণ করা হয়। ত্রিশালের পূর্ব সীমানা দিয়েসুতিয়া নদী প্রবাহিত। এর পশ্চিম তীরে ছিল তিনটি বিশাল আকৃতির শাল গাছ। একদা একপ্রেমিক যুগল গোপনে পলায়নরত অবস্থায় তিনটি শাল গাছের নীচে আশ্রয় নেয়। পরে খোজপেয়ে তাদেরকে উত্তম মধ্যম দেয়। ঘটনার কথা সর্বত্র রটে যাওয়ায় তাদের পলায়নেরস্থান দেখতে তিন শাল গাছের নিকট যাওয়া শুরু করে এলাকাবাসী। আর তিন শাল গাছেরনীচের ঘটনাকে স্মরন রাখতে স্থানটির নাম দেয় তিনশাল,যা পরবর্তীতে ত্রিশাল নাম ধারনকরে। তৎকালীর জেলা প্রশাসক জাফর আহম্মেদ চৌধুরী উল্লেখ করেছেন যে, অত্র থানার বৈলরইউনিয়নের ইমান আলী, সাহিত্যরত্ন এর দিনপঞ্জী থেকে জানা যায় যে, অত্র এলাকার জনবসতিহওয়ার পূর্বে জনৈক ত্রিশূলধারী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রনে সমাজ গঠন হয়। এই ত্রিশূল এরশিষ্যবর্গ এখানে বসতি স্থাপন করে। এই ত্রিশূল থেকেই কালক্রমে ত্রিশাল নামেরউৎপত্তি। জাফর আহম্মেদ চৌধুরী সাহের ত্রিশাল থানার নামকরনের উৎস সম্পর্কে জনশ্রুতিঅনুযায়ী উল্লেখ করেছেন, প্রথম যারা এলাকায় গভীর অরন্যে বসতি স্থাপন করে তাদেরসংখ্যা ছিল ত্রিশ জন। হিংস্র প্রানীদের আক্রমন থেকে আত্ম রক্ষার্থে তারা বাড়ীরচতুর্দিকে দেয়াল নির্মাণ করেছিল উচু দেয়ালকে আল বলত। এরা ক্রমে ক্রমে অপরাপর বসতিস্থাপনকারীদের নিকট গুরুত্ব লাভ করে। নতুন বসতি স্থাপনকারীগণ তাদেরকে তিরিশ আলোরলোক বলে সম্মান করত। এভাবে তিরিশ আল থেকে ত্রিশাল নামের উৎপত্তি।

ত্রিশাল পৌরসভা ৫মে ১৯৯৮খ্রি: তারিখে প্রতিষ্ঠিত  হয়েছে। তৎকালীন স্থানীয়সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী বর্তমানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব জিল্লুররহমান ত্রিশাল পৌরসভা ঘোষনা করেন। ত্রিশাল পৌরসভার আয়তন ১৫.৪৯ বর্গকিলোমিটার। ৯টিওয়ার্ড নিয়ে ত্রিশাল পৌরসভা গঠিত।

Contact Us

  • ত্রিশাল পৌরসভা
  • +৮৮০ ১৭১১ ৬৮৭১৮৭
  • mayor@trishalpourashava.org